23:07 - July 16, 2016
31
সংবাদ: 2601210
আল্লাহ তা’আলা কুরানের সুরা আল ইমরানের ৬৪ নাম্বার আয়াতে বলেছেন “ এসো সেই কথায় যা তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে এক”। প্রত্যেক্ টি মুসলমানকে আল্লাহ নির্দেশ করেছেন আহলে কিতাব বা অমুসলিমদের সাথে শুধু মাত্র সাদৃশ্য গুলো নিয়েই আলোচনা করতে। আমরা যখন কারো সাথে অমিল নিয়ে আলোচনা করি তখন আমাদের মধ্যে সবাভাবিক ভাবেই বিরোধ বাধে। অশান্তির সৃস্টি হয় । আর আল্লাহ পাক কুরানের অনেক জায়গায় বলেছেন তিনি অশান্তি পছন্দ করেন না। আর সে কারনেই আল্লাহ আমাদের উপর এ রকম নির্দেশ জারি করেছেন।

বাইরে থেকে দেখলে হিন্দু ধর্ম ও
ইসলামের মধ্যে কোনো রকম সাদৃশ্য খুজে পাওয়া যাবে না। কারন আমরা একজন হিন্দুর চাল-চলন কেই হিন্দু ধর্ম এবং একজন মুসলমানের আচার-ব্যবহার কেই ইসলাম ধর্ম মনে করি। কিন্তু আমি এই প্রবন্ধে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সাদৃশ্য আলোচনা করব না। আমি এখানে আলোচনা করব হিন্দু ধর্ম ও ইসলাম ধর্মের মধ্যে সাদৃশ্য পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গুলোর উপর ভিত্তি করে।

ইসলাম ধর্মে ঈশ্বর বা আল্লাহর সব চেয়ে ভালো যে সংজ্ঞা হতে পারে সেটা সুরা ইখলাস। এই সুরাই বলা হয়েছে, ” বলো, আল্লাহ এক। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে স্বতন্ত্র। তিনি না জনক না তিনি জাতক এবং না তাঁর সমকক্ষ কেউ আছে।এই চারটি বাক্যের সাহায্যে আমরা ইসলাম ধর্মে আল্লাহ সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারনা করে নিতে পারি।

এবার আসুন আমরা হিন্দু ধর্মে ঈশ্বর সম্পর্কে জানি। যদি কোনো সাধারন হিন্দুকে প্রশ্ন করি আপনি ক-জন ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন? কেউ হইতো বলবে ১০ জন, কেউ ৫০ জন, কেউ ১০০০ জন আবার কেউ হয়তো বলবেন ৩৩ কোটি জন। কিন্তু আমরা যদি কোনো জ্ঞানী, পন্ডিত যিনি হিন্দু ধর্মের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ গুলো যেমন; বেদ, পূরান, পড়েছেন তার কাছে যাই তাহলে তিনি বলবেন হিন্দুদের কেবল মাত্র একজন ঈশ্বরের ইবাদাত করা উচিত। এ সম্পর্কে বেদ বা হিন্দু ধর্মের বহু কিতাব থেকে বহু উদ্ধৃতি মন্দেত্রওয়া যায়। যেমন, চারটি বেদেই এই শ্লোক মন্ত্র আছে। একে বেদের ব্রহ্মসুত্রও বলা হয়ে থাকে-একম ব্রহ্মা দ্বৈত্য নাস্তি নহিনা নাস্তি কিঞ্চান"। অর্থাত ইশ্বর একজন তার মতো কেউ নেই, কেউ নেই সামান্য নেই। আরও আছে তিনি একজন তারই উপাসনা করো”(ঋকবেদ ২/৪৫/১৬)। "এক্‌ম এবম অদ্বৈতম অর্থাত তিনি একজন তার মত আর দ্বিতীয় কেউ নেই (ঋকবেদ ১/২/৩)। একজনই বিশ্বের প্রভূ”(ঋকবেদ ১০/১২১/৩)। এছাড়াও অনেক জোর দিয়ে বলা হয়েছে-

ন্ দ্বিতীয় ন্‌ তৃতীয় চতূর্থ না পুচ্যতে।

ন্‌ পঞ্চম ন্‌ ষস্ট সপ্ত না পুচ্যতে।।

ন্‌ অস্টম ন্‌ নবম দশমো নআ পুচ্যতে।

য এতং দেব মেক বৃত্যং বেদ।।” (অথর্ব বেদ সুক্ত ১৪/৪/২)

অর্থাত পরমাত্মা এক। তিনি ছাড়া কেহই দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ, পঞ্চম,ষস্ট,সপ্তম,অস্টম,নবম বা দশম বলিয়া অবিহিত আর কেহই নাই। যিনি তাহাকে এক বলিয়া জানেন তিনিই তাহাকে প্রাপ্ত হোন।

উপরের এ সকল স্লোক থেকে এটা পরিস্কার হয়ে যায় যে, হিন্দু ধর্মেও একেশ্বরবাদ স্বীকৃত। তাই ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের মধ্যে প্রথম সাদৃশ্য হল এক ঈশ্বর ব্যাতীত দ্বিতীয় কোন ঈশ্বর নেই।

জুয়া খেলা নিষিদ্ধ:

ইসলাম ধর্মে জুয়া হারাম এটা সব মুসলমানই জানে কিন্তু বেশির ভাগ হিন্দুই জানে না যে হিন্দু ধর্মেও জুয়া খেলা হারাম বা নিষিদ্ধ। বেদে আছে "জুয়ারি ব্যক্তির শ্বাস তাকে অভিশাপ দেয়, তার স্ত্রীও তাকে ত্যাগ করে। জুয়ারি কে কেউ কানাকরি ঋন দেয় না”(ঋকবেদ/১০।৩৪।৩)। চিন্তা করুন জুয়ারি ব্যাক্তির শ্বাস তাকে অভিশাপ দেয় । অর্থাৎ সে ২৪ ঘন্টায় অভিশাপ পেতে থাকে। হিন্দু ধর্মে জুয়া খেলা তাহলে কত বড় পাপ, কত জঘন্য অপরাধ । ঈশ্বর আমাদের এ রকম জঘন্য খেলা থেকে বাঁচার ক্ষমতা দিন। আমিন!

মদ পান করা নিষিদ্ধ:

পাশ্চাত্যে একটা সমিক্ষায় দেখা গিয়েছে যারা নিকট আত্মীয়ের সাথে যৌনসংসর্গ করে তাদের বেশীর ভাগই তা নেশা অবস্থায় বা মাতাল অবস্থায় করে । এ ছাড়া যারা HIV তে আক্রান্ত হয় তাড়া তো প্রায় সবাই মদ্য পানকারি । যা খেলে মানুষ তার হোশ হারায় সে খাদ্য কিভাবে ভালো হতে পারে। এ কারনে ইসলামে মদ্যপান কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ।

সাধারন হিন্দুদের মধ্যে যদিও মদ পান করা কে কোনো ঘৃন্য কাজ বলে মনে করা হয় না কিন্তু হিন্দু ধর্মের প্রধান ধর্ম গ্রন্থ বেদে মদ্য পান থেকে দূরে থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যেমন ঋকবেদে ১০।৩৪।১৩ শ্লোকে বলা হয়েছে "মদ পান করার পর মদের নেশা পানকারির হৃদয়ে স্থান লাভের জন্য লড়াই শুরু করে অর্থাৎ মদ পান করার ফলে মদের নেশা মানুষের মন দখল করে নেয় ফলে সে ভালো-খারাপ, পাপ-পুন্য সব কিছুই ভুলে যায় এবং নোংরা কাজে লিপ্ত হয়। তাই মদের নেশা যাতে মনে স্থান করতে না পারে তার জন্য মদ থেকে দূরে থাকতে হবে।

নারীদের পর্দা বা হিজাব:

মুসলিম ও এবং অমুসলিমদের মধ্যে একটি ভুল ধারনা প্রচলিত আছে যে ইসলাম নারীদের ছোটো করে রাখে, তাদের পর্দায় রাখে। এটা আসলে তারা তাদের অজ্ঞানতার কারনে বলে থাকে। ইসলাম শুধু নারীদের নয় পুরুষদেরও পর্দার কথা বলে । আর প্রথমে পুরুষদের কথা বলা হয়েছে তার পর নারীদের। যেমন কুরানের ২৪ নম্বার সুরার ৩০ নম্বার আয়াতে পুরুষদের পর্দার কথা বলা হয়েছে। এর পরের আয়াতে অর্থাৎ ৩১ নম্বার আয়াতে নারীদের পর্দার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি পুরুষ এবং নারী উভয়ই শরীর ঢেকে রাখে তাহলে সমাজ থেকে ধর্ষন, ব্যভিচার, অবৈধ সম্পর্ক অনেক কমে যাবে। সৌদি আরব ধর্ষন, ব্যভিচা্র বা অনান্য নোংরামীতে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে। এর কারন হল পর্দা এবং ইসলামী শরিয়তের বাস্তবায়ন।

হিন্দু ধর্মেও নারীদের পর্দার কথা বলা হয়েছে। যেমন- যেহেতু ব্রহ্মা তোমাদের নারী করেছেন তাই দৃষ্টিকে অবনত রাখবে, উপরে নয়। নিজেদের পা সামলে রাখো। এমন পোষাক পড়ো যাতে কেউ তোমার দেহ দেখতে না পায় (ঋকবেদ ৮।৩৩।১৯)।

সুত্রঃ ১। হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে আল্লাহ ও মুহাম্মাদ - সুশান্ত নন্দী; ২। হিন্দু ধর্মের গোপন কথা

ট্যাগ্সসমূহ: মুসলমান ، ইসলাম ، আল্লাহ ، হিন্দু
প্রকাশিত: 31
পর্যালোচনা করা হচ্ছে: 2
প্রকাশযোগ্য নয়: 0
Sohel rana
0
0
amar khub valo laglo
সুনীল কুমার দাস
0
0
অনেক কিছু জানলাম,বেশ ভালো লাগল |
santonu jana
0
0
খুব ভালো লগলো .আরো কিছু জানতে ইচ্ছা করছে
অ্যাডমিন আসসালামু আলাইকুম,
মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ
আজ্ঞাতনামা
0
0
admin ভাই অর্থব বেদ ও ভবিষ্য পুরানের pdf থাকলে আমার ম্যাসেজে পাঠিয়ে দেবেন।
সুদীপ পাল
0
0
অসাধারন পোস্ট খুব ভাল লাগল, এমন ভাবে চিন্তা করলে সমাজে জাতির লড়াই বলে কিছুই থাকবে না শুধু শান্তি বিরাজ করবে, ওঁ তৎসৎ
অ্যাডমিন আসসালামু আলাইকুম,
সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
সত্যিই মানুষ যদি তার চিন্তাকে একটু বিকশিত করত তাহলে সমাজে অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন ও ... কিছু থাকত না। আমরা সকলেই সুখে শান্তিতে সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করতে পারতাম।
উত্তরসমূহ
রবীন্দ্র ঘোষ
হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে কোনসময়ই বন্ধুত্ব আসবে না। কারন আমরা হিন্দুরা জাতী গতভাবে মুসলিম বিরোধী। আর মুসলিমরাও জাতীগতভাবে হিন্দু বিরোধী।
Margub Alam
0
0
Sotti.Khub valo laglo....
অ্যাডমিন আসসালামু আলাইকুম,
সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
Altaf hussain.
0
0
Xub valo lalo.
পি,ডি,এম,নেমান উসমানী
0
0
আমি মনে করি ইসলাম ই এক মাত্র সনাতনধর্ম
রবিউল গাজী
0
0
ইসলাম শুধু শিখা দেয় না পাসা পাশি হাতে নাতে দেখিয়ে দেয়
আমিন
0
0
জুয়া খেলা আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিছে
ocblnwnr
0
0
20
আবুল হুছেইন
0
0
আমাৰা হিন্দু মুছলমান সবাই এক হতে পাৰব যদি আমৰা নিজেদেৰ ধৰ্ম কে খুব ভাল ভাবে বুজতে পাৰি।
আজ্ঞাতনামা
0
0
Hidu muslimer dharmik kutkochali niye bohu jug dhore amra poroshporke ninda , opoman kore eshechi ....
Ei bosta pocha bhabna gulo theke biroto thakai bhalo.
আজ্ঞাতনামা
0
0
হ্ম
ইকরমা উদ্দীন
0
0
হিন্দুদের শিবলিঙ্গ পূজা কখন হয়???????????
আশিক
0
0
হিন্দু ধর্ম ও ইসলাম ধর্ম এর মধ্যে পার্থক্য কি?
আলাদা আলাদা ভাবে জানতে চাই।
আশিক
0
0
হিন্দু ধর্ম ও ইসলাম ধর্ম এর মধ্যে পার্থক্য কি?
আলাদা আলাদা ভাবে জানতে চাই।
afpnjwrp
0
0
20
asad
0
0
nice
গোলাপ হুসেইন
0
0
সুন্দর লেখা
মোঃ পারভেজ হোসেন
0
0
অসাধারন,
এই যগের মানুষ মসলিম বলি আর হিন্দু বলি
আমাদের মাঝে ভিবেগ থাকিও আমরা ভিবেগ ছাড়া কাছ করি
আবার দেখা গেলো কি যে কাজে খারাপ কাজ থাকে ওই কাজ আমরা আরো বেশি করে থাকি
আল্লাহু যেনো আমাদেরকে খারাপ কাজ থেকে হেফাজত করেন এবং ভালো পথে চলার তৈফিক দান করুন আমিন
মোঃ হাবিবুর রহমান
0
0
আল্লাহ বা ঈশ্বর আমাদের হেদায়েদ দান করুন এবং নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে সাহায্য করুন। আর হিন্দু মুসলমান চাইলে বন্ধু হতে পারে শুত্রু নয়। আমি যেমন কুরআন কে ভালো বাসি কুরআন মনযোগ দিয়ে পরি তেমন অন্যান ধর্মীয় গ্রন্থ গুলোকেও ভালো বাসি এবং মনযোগ সহকারে পরি।
maruf al kayes
0
0
আমি মনে করি
শুধু মাত্র হিন্দুরাই মনে করে তারা জাতিগত শত্রু মুসলিমদের ।
কিন্তু
মুসলিমরা তা কি কখনো মনে করে।
না কখনই না
maruf al kayes
0
0
আমি মনে করি
শুধু মাত্র হিন্দুরাই মনে করে তারা জাতিগত শত্রু মুসলিমদের ।
কিন্তু
মুসলিমরা তা কি কখনো মনে করে।
না কখনই না
Bobby
0
0
Sou2mahptont17;s St. mays stadium got good ground facilities and a brilliant standard training ground and a good fan base in the city and lets face it Portsmouth will never get a new stadium because their in finical trouble and it shouldn’t be in scotland or wales its ENGLAND 2018 not UK 2018
জানে আলম খান
0
0
ধরমো কে নিয়ে আমরা সবাই বড় বড় বুলি দেই,আসলে মানব সেবাই কি বড় ধরমো নয়,খুদার ধরমোকি? সেখানে সকল ধরমের লোক আছে,ইবাদতের জায়গা খোদার দুনিয়াতে সবই,তবে আমরা তার সেজদায়তো সব খানেই যেতে পারী,মন মন ঠিক আগে করি,নিজেরা ঠিকনা হয়ে,অপরকে কেন দোসারপ করি,ইসলাম আসলে কি? আমরা সবাইকে নিয়ে কথা বলি,নিজেদের ইমাম নিয়ে কজনে বলি? এদুনিয়ায় আসার আগে সবাই ছিলাম এক সাথে,এখন আলাদা কেন? আমি বলি সেবাই বড় ধরমো,এর সাথে ইনছাফ,রহমত অপরের জন্য কামনা,তবেই নিজের আসবে,সের দরে ধরমোকে না বেচা,ধরমের নামে ব্যাবস হচেছ! উপরআলা রেগে গেছে,হারাম আর কত দিন,ওদের আরাম শেষ,গরীবের অধীকার ফীরবেই, গরীবের জল উপরে আগে যায়,সকল ধরমেই লেখা আছে,আমিন,অং শানতি,আমিন,অংশানতি,আমার মন যেখানে কাদতে চায়,আমি সেখানেই কাদি,মনব বহুরুপী খোদা নয়,সে অভীনয় করেনা,এবার গরীবের জয় হবে,অংনমো সেবায়,আমিন
sbleo361@gmail.com
0
0
অসাধারন নতুন অনেক কিছু জানতে পারলাম।
লিটন বিশ্বাস
0
0
খুব ভাল লেগেছ
সুবোধ দাস
0
0
আপনার কথা গুলো খুব ভাল লাগল, কানা লোকদের একটু বুজিয়ে বলবেন
S.M. Madhuaodhon Das
0
0
আমার খুব ভালো লেগেছে
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
আলোচিত সংবাদ